ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধিতা ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার কারণে নিজেকে পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নোয়াখালীর বাঁধের হাট আবদুল মালেক উকিল ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হাসিবুল ইসলাম মারুফ। সম্প্রতি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
মঙ্গলবার নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে হাসিবুল ইসলাম মারুফকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে বহিষ্কৃত নেতা মারুফ এই সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ অন্যায় এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, যদি তিনি কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা অবৈধ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতেন, তবে হয়তো তাকে এভাবে বহিষ্কার করা হতো না। কিন্তু দেশের স্বার্থে এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই তাকে এই খেসারত দিতে হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্রসংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে প্রায় সময়ই নানা বিতর্ক তৈরি হয়। বিশেষ করে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বৈদেশিক নীতি এবং সাংস্কৃতিক নানা ইস্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তরুণ নেতাদের মতামত প্রকাশের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ঘটনার পর নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে কঠোর সাংগঠনিক অবস্থান বজায় রাখার কথা বলা হলেও, বহিষ্কৃত নেতার এমন বিস্ফোরক মন্তব্যের ফলে বিষয়টি নতুন মোড় নিয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীরা এখন এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি তুলছেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক