তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি বাড়ানোর জোরালো দাবিতে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন দেশের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ নেতারা। একই সঙ্গে সাধারণ জনগণের কষ্টার্জিত ট্যাক্সের টাকায় দেশের ব্যাংক খাতকে বাঁচানোর একের পর এক বিতর্কিত উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছেন তারা। শ্রমিক নেতারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, অতীতে এস আলম গ্রুপ ও বেক্সিমকোসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গ্রুপের বড় অঙ্কের অর্থ চুরির দায় এবং ব্যাংক খাতের সীমিত লুটপাটের শাস্তি কেন সাধারণ জনগণকে ভোগ করতে হবে, তার কোনো সদুত্তর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দিতে পারছে না।
শ্রমিক নেতারা সাম্প্রতিক এক সমাবেশে ক্ষোভ প্রকাশ করে গণমাধ্যমকে জানান যে, গত কয়েক দিন ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর একটি অযৌক্তিক দাবি তুলেছেন। সেই দাবি অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে যদি বেলআউট বা আর্থিক সহায়তা দেওয়া না হয়, তবে পুরো অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়তে পারে। এই যুক্তির কঠোর সমালোচনা করে শ্রমিক প্রতিনিধিরা বলেন, কতিপয় দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি ও প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠী ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ বা পাচার করে এখন পার পেয়ে যাচ্ছে, অথচ সেই ঘাটতি পূরণে জনগণের করের টাকা ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রার মান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে উল্লেখ করে বক্তারা আরও বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে পোশাকশ্রমিকদের বর্তমান মজুরি দিয়ে জীবন ধারণ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অবিলম্বে শ্রমিকদের জীবনমানের সঙ্গে সংগতি রেখে মজুরি পুনঃনির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি, ব্যাংক খাতের প্রকৃত লুটেরাদের চিহ্নিত করে তাদের ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পত্তি বাজোপ্ত করার মাধ্যমে ব্যাংকের অর্থ পুনরুদ্ধার করার দাবি জানান তারা। অন্যথায়, শ্রমিক সমাজ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন নেতারা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক