পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি, গভর্নরের শাসন আরোপ এবং সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত যেন মানবাধিকার দমনের অজুহাত হয়ে না ওঠে, সে বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে সরকারের পক্ষ থেকে এই কঠোর পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে। তবে মানবাধিকার সংস্থাটির মতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার এবং বাকস্বাধীনতা খর্ব করার কোনো সুযোগ নেই।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার নামে অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রয়োগ এবং নির্বিচারে গ্রেফতারের মতো ঘটনা অতীতেও মানবাধিকার পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটিয়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তা মোকাবিলায় রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। সেনা মোতায়েন এবং জরুরি অবস্থা জারির ফলে সাধারণ নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এবং চলাচলের স্বাধীনতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে এই ধরনের কঠোর সিদ্ধান্ত দেশটিকে আরও বেশি অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। বিগত দিনে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকটের সময় ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের মতো অন্যান্য অঞ্চলেও দমনপীড়নের ইতিহাস রয়েছে, যা থেকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর শিক্ষা নেওয়া উচিত। পাকিস্তানের নীতিনির্ধারক মহলের উচিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং দেশের সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
সংস্থাটি আরও জোর দিয়ে বলেছে যে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নামে যেন স্থানীয় জনগণের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ বা অন্যায় নিপীড়ন চালানো না হয়। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ অক্ষুণ্ণ রেখে এবং স্বচ্ছতা বজায় রেখেই কেবল বর্তমান সংকটের টেকসই সমাধান সম্ভব। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এই সতর্কবার্তার পর পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানামুখী আলোচনা শুরু হয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক