সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে চাঞ্চল্যকর প্রবাসীর স্ত্রী শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্না হত্যা মামলায় অভিযুক্ত জিতেশ চন্দ্র গোপকে (৩২) মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে এই নৃশংস ঘটনায় লাশ গুম এবং অপরাধের আলামত ধ্বংস করার অপরাধে তাকে আরও সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, জগন্নাথপুর উপজেলার একটি এলাকায় প্রবাসীর স্ত্রী শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্নাকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল। ঘটনার সময় অভিযুক্ত জিতেশ চন্দ্র গোপ পেশায় একজন ফার্মাসিস্ট ছিলেন। তিনি এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এবং ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে এই জঘন্য হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়। হত্যাকাдণ্ডের পর প্রমাণ লোপাট করার জন্য নিহতের লাশ গুম করার মতো গুরুতর অপরাধও করা হয়েছিল।
ঘটনার পর পরই নিহতের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পুলিশ প্রশাসন অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ আদালত এই মামলার রায় প্রদান করেন। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, এই ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ফলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা অনেকাংশেই হ্রাস পাবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।
বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন যে, সমাজে এ ধরনের নৃশংসতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তারা এই রায়কে ন্যায়বিচারের একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখছেন। আদালতের এই ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে আইনের শাসন আরও সুদৃঢ় হলো বলে সাংবাদিকদের জানান সংশ্লিষ্টরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক