ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রায় সাড়ে তিন দশক ধরে আন্দোলন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত যন্তর-মন্তরকে বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত স্থানের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। এর পরিবর্তে রাজধানীর তিনটি বিকল্প স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সর
দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক ধরে যন্তর-মন্তর ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, শ্রমিক ইউনিয়ন এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রকাশ ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনের প্রধান পীঠস্থান হিসেবে পরিচিত ছিল। সংসদের কাছাকাছি হওয়ায় এই স্থানে বিক্ষোভ করলে সরকারের নীতিনির্ধারকদের সহজে দৃষ্টি আকর্ষণ করা সম্ভব হতো। তবে দিল্লি পুলিশের সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্তের ফলে ঐতিহাসিক এই স্থানটিতে আর কোনো ধরনের প্রতিবাদ বা আন্দোলন কর্মসূচি পালন করা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
গণমাধ্যমকে জানান যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত স্বাভাবিক রাখার অজুহাতে এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। যন্তর-মন্তরের বিকল্প হিসেবে দিল্লির উপকণ্ঠ এবং তুলনামূলক কম জনবহুল তিনটি নির্দিষ্ট স্থানকে প্রতিবাদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এই পরিবর্তনের ফলে শহরের মূল পয়েন্টগুলোতে যানজট কমবে এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে। তবে সমালোচকরা মনে করছেন, ভিন্নমত পোষণকারী এবং প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরগুলোকে মূল শহর থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার একটি সুদূরপ্রসারী কৌশল এটি।
বিশ্লেষকদের মতে, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের অধিকার খর্ব করার এই অপচেষ্টা জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি করতে পারে। অতীতে যেমন স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকার বাংলাদেশে ভিন্নমত দমনের জন্য দমনপীড়ন ও প্রতিবাদের পথ রুদ্ধ করার নানা কৌশল গ্রহণ করেছিল, ঠিক তেমনি ভারতেও প্রতিবাদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে সংকুচিত করার এই প্রবণতা গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। ভবিষ্যতে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী গোষ্ঠীগুলো আইনি লড়াইয়ে নামতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক