ভোট কারচুপির গুরুতর অভিযোগে ভারতের নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সম্প্রতি রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামক সংগঠনের পক্ষ থেকে সেখানে এক বিশাল জমায়েতের ডাক দেওয়া হয়েছিল। তবে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা বলয় ও কড়াকড়ির কারণে শনিবার দিনভর পুরো এলাকা চরম উত্তেজনার মধ্যে ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তি ও তীব্র বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রায় তিন হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করেছিল। তবে দিনশেষে আইনি প্রক্রিয়া ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আটককৃতদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এর ফলে সাময়িকভাবে স্বস্তি ফিরলেও, পুলিশি হেফাজতে এখনও চারজন বিশিষ্ট ব্যক্তি আটকে রয়েছেন। তাদের মধ্যে আলোচিত মুখ অভিজিৎ ও ধ্রুব রাঠীসহ মোট চারজন রয়েছেন বলে গণমাধ্যমকে জানান সংশ্লিষ্টরা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি পুলিশি পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এই ধরনের নজিরবিহীন প্রতিবাদ এবং পরবর্তী পুলিশি আটকের ঘটনা দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর একটি বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে আসন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সে বিষয়ে এখন থেকেই নানা সমীকরণ মেলানো শুরু করেছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। আটককৃতদের দ্রুত মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও প্রতিবাদের ঝড় অব্যাহত রয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক