ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তীব্র বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশটির রাজধানী দিল্লি। গতকাল শনিবার রাজধানীতে ককরোচ জনতা পার্টির পূর্বঘোষিত সমাবেশ ঘিরে কার্যত এক যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তরুণ সমাজের একটি বিশাল অংশ এই বিক্ষোভে অংশ নেয়, যা দিল্লির রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। আন্দোলনকারীদের একটাই দাবি, প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুরো দিল্লি শহরকে যেন একটি দুর্গে পরিণত করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৪০ হাজারের বেশি সদস্যকে রাজপথে মোতায়েন করা হয়, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে বড় ধরনের আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ব্যারিকেড বসায় এবং কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তরুণ সমাজের এই ক্ষোভ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে তরুণদের এই আন্দোলন ভারতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রাজধানীতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন অব্যাহত রয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক