যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন করে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন সামরিক হামলার খবরের প্রভাবে বিশ্ববাজারে ক্রুড বা অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম চার শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন এক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন নীতিনির্ধারকদের রাজনৈতিক সমীকরণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতির বাড়বাড়ন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অপরিশোধিত তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি কেবল একটি অর্থনৈতিক সূচক নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে গভীর কৌশলগত ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন। অতীতেও বিভিন্ন সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের আশঙ্কা বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের পারদ চড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ওপেকভুক্ত দেশগুলো ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে নানামুখী কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হলেও বাজারের ওপর তার সুফল এখনো দেখা যাচ্ছে না। সাধারণ ভোক্তাদের ওপর এই মূল্যবৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব এড়াতে বিভিন্ন দেশের সরকারগুলো বিকল্প জ্বালানি উৎসের সন্ধান করছে।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই চলমান সামরিক প্রস্তুতি এবং পাল্টাপাল্টি হুংকার যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য জ্বালানি আমদানি ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে বিশ্বজুড়ে অর্থনীতিবিদ ও জ্বালানি বিশ্লেষকদের।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক