যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ সাত মাস ধরে চলা সামরিক ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে এবার বড় ধরনের ধাক্কা খেল ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও অর্থনীতি। তীব্র অর্থনৈতিক চাপ ও চলমান সংকটময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দেশটিতে একের পর এক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের ঘটনা ঘটে চলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের জ্বালানিমন্ত্রী। দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থার বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনার কারণে ইরানের জ্বালানি খাত এক মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশটির তেল ও গ্যাস রপ্তানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রার ওপর। জ্বালানি সংকটের কারণে দেশটিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। এই সার্বিক পরিস্থিতিতে ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে জ্বালানিমন্ত্রীর এই পদত্যাগ সরকারের ভেতরের সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে বলে মনে করছেন মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক গবেষকরা।
পদত্যাগের আগে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বিদায়ী জ্বালানিমন্ত্রী দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার কথা তুলে ধরে নিজের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং কাঠামোগত নানা জটিলতার কারণে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় জ্বালানি খাতের উন্নয়ন বা সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হচ্ছিল না। এদিকে ইরানের নীতিনির্ধারক মহল মনে করছে, এই পদত্যাগের পর দেশটির জ্বালানি ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের রদবদল আসতে পারে। বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য তেহরান নতুন কোনো কৌশল গ্রহণ করে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়। আন্তর্জাতিক বাজারেও ইরানের এই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে কেমন পড়বে, তা নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক