নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদকসেবীর অপবাদ দিয়ে একটি মর্মান্তিক মব সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবিআই। ঘটনার পর থেকেই এলাকা জুড়ে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত অভিযান চালিয়ে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্তদের আইনের আওতায় আনে।
গ্রেপ্তারের পর ওই দুই কিশোর আদালতে হাজির হয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজেদের দায় স্বীকার করে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। রোববার বিকেলে নোয়াখালীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানান, গত কয়েকদিন ধরে দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে মব জাস্টিস বা বিচারবহির্ভূত সহিংসতার প্রবণতা রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সোনাইমুড়ীর এই ঘটনার গভীরে আরও কোনো রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী চক্রের ইন্ধন ছিল কি না, পিবিআই তা খতিয়ে দেখছে। মূলত একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিনা বিচারে এমন পৈশাচিক কায়দায় একজন খেটে খাওয়া মানুষকে হত্যা করার ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
উল্লেখ্য, বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের শাসনামলে বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে সমাজে অপরাধ প্রবণতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। বর্তমানে রাষ্ট্র মেরামতের প্রক্রিয়ায় এ ধরনের প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহত রিকশাচালকের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী। পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা উদ্ঘাটনে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদসহ অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক