ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ২০২৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে চলমান বর্বর সামরিক আগ্রাসনের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ইসরাইলি বাহিনী আটশরও বেশি ফিলিস্তিনি শিক্ষককে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। এছাড়া এই নৃশংস হামলায় আহত হয়েছেন তিন হাজারেরও বেশি শিক্ষক। সম্প্রতি ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতিতে এই মর্মান্তিক তথ্য জানানো হয়েছে। বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপনের প্রাক্কালে ফিলিস্তিনি শিক্ষক ও শিক্ষাবিদদের ওপর চালানো এই পরিকল্পিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে যে, অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করার অংশ হিসেবেই ইসরাইলি সামরিক বাহিনী শিক্ষক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান সত্ত্বেও দখলদার বাহিনীর বিমান ও জমিন হামলায় গাজার স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিশাল অংশ মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। এর ফলে হাজার হাজার শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষা জীবন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে পড়ছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো গাজায় শিক্ষাবিদদের ওপর এই নিরন্তর হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করলেও ইসরাইল বরাবরই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে চলেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গাজায় দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাত কেবল অবকাঠামোই ধ্বংস করছে না, বরং একটি পুরো প্রজন্মকে শিক্ষা থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার সুদূরপ্রসারী চক্রান্ত চলছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন তারা অবিলম্বে গাজার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। একইসঙ্গে যুদ্ধাপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক আদালতে ইসরাইলি নেতৃত্বের বিচার দাবি করা হয়েছে। গাজার শিক্ষক সমাজ চরম প্রতিকূল পরিবেশেও তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের চেষ্টা চালিয়ে গেলেও দখলদার বাহিনীর মুহুর্মুহু হামলায় তা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক