ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখন বাংলাদেশকে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। তিনি বলেছেন, বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় ইইউ সবসময় এই দেশের পাশে রয়েছে।
সম্প্রতি কূটনৈতিক এক অনুষ্ঠানে আলাপকালে ইইউ রাষ্ট্রদূত এই মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান পরিবর্তিত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলোতে বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় করতে কাজ করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বিশেষ করে বাণিজ্য সুবিধা এবং শ্রম অধিকারের ক্ষেত্রে উভয়ের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আগ্রহ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অতীতে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিভিন্ন ইইউভুক্ত দেশের সঙ্গে সম্পর্কে নানা জটিলতা তৈরি হলেও, বর্তমানে নতুন বন্দোবস্তে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার আরও আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী দিনে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার অংশীদারিত্ব কেবল বাণিজ্যের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা কৌশলগত ও ভূ-রাজনৈতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও পারস্পরিক সহযোগিতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠবে। দেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলোকে সাধুবাদ জানিয়ে ইইউ ভবিষ্যতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক