উত্তর কোরিয়া আবারও তাদের সামরিক প্রযুক্তির সক্ষমতা প্রদর্শনের চেষ্টা করেছে। সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের পাশাপাশি দেশটির সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিতও মিলেছে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মধ্য দিয়ে। পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা সম্প্রতি অত্যন্ত সফলভাবে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার পরীক্ষা চালিয়েছে। এই সামরিক প্রদর্শনীতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার মেয়ে জু এ। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, কিম জং উন তার উত্তরসূরি হিসেবেই জু এ-কে বিশ্ববাসীর সামনে পরিচিত করার দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নিয়ে এগোচ্ছেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর কোরিয়া তাদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং পারমাণবিক অস্ত্রাগার আধুনিকীকরণে বিশেষ জোর দিয়েছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে একের পর এক অত্যাধুনিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি। এবারের এআই-চালিত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাটি দেশটির সামরিক প্রযুক্তিতে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে বলে দাবি করেছে পিয়ংইয়ংয়ের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। এই ধরনের প্রযুক্তি যুদ্ধক্ষেত্রে ক্ষেপণাস্ত্রের নিখুঁত নিশানায় আঘাত হানার ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের সামরিক কার্যক্রমে জু এ-র নিয়মিত উপস্থিতি কেবল পারিবারিক স্নেহ প্রদর্শনের বিষয় নয়, বরং এটি একটি সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক বার্তা। উত্তর কোরিয়ার মতো কঠোর ও পুরুষতান্ত্রিক একটি রাষ্ট্রে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব হিসেবে একজন তরুণীকে প্রস্তুত করার এই প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক ঘটনা। দেশটির ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে কিমের পরিবারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার এটি একটি সুকৌশলী পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন বৈশ্বিক কূটনীতিবিদরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক