রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের দৃশ্যের ঐতিহাসিক ম্যুরাল সরিয়ে সেখানে নতুন করে ফোয়ারা নির্মাণের কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনা এখনো সরকার গ্রহণ করেনি বলে পরিষ্কার জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। সাম্প্রতিক সময়ে এ বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানামুখী আলোচনা ও গুঞ্জন শুরু হলে মন্ত্রী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করেন এবং বিভ্রান্তি দূর করার আহ্বান জানান।
বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ও সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী জানান যে, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত বিজয় এবং ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলোকে সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের সামনে সঠিকভাবে তুলে ধরার বিষয়টি বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মতো একটি ঐতিহাসিক স্থানের পবিত্রতা ও গুরুত্ব বজায় রেখে সরকার কাজ করছে এবং সেখানে কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা ম্যুরাল অপসারণের বা পরিবর্তনের মতো কোনো হটকারী বা অপরিপক্ব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যৌথ কমান্ডের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছিল। এই ঘটনার স্মৃতিকে অম্লান রাখতে এবং ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করতে পরবর্তীতে সেখানে ম্যুরালসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্মারক স্থাপন করা হয়। দীর্ঘ স্বৈরাচারী শাসন আমলের পর সম্প্রতি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন স্থাপনা সংস্কার বা পরিবর্তন নিয়ে নানা ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রচারণার মাঝে এই ম্যুরাল সরানোর গুঞ্জন উঠেছিল, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে আজ নিশ্চিত করলেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক