স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশি চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও ফেলোশিপের সুযোগ দিতে চীন ও পাকিস্তান তাদের দুয়ার খুলে দিয়েছে। চীন বাংলাদেশি চিকিৎসকদের ফেলোশিপে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং একইসঙ্গে পাকিস্তানও তাদের দেশের উন্নত মেডিকেল ইনস্টিটিউটগুলোতে আমাদের চিকিৎসকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা জানিয়েছে।
গণমাধ্যমকে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দেশের চিকিৎসা খাতের মানোন্নয়ন এবং চিকিৎসকদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ এক বিরাট মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। বিগত দিনে স্বাস্থ্য খাতের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে চিকিৎসকরা সঠিক সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে স্বাস্থ্য খাতে চরম অব্যবস্থাপনা দেখা দিয়েছিল, যার ফলে সাধারণ মানুষ ও চিকিৎসকরা উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সেই সময় কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ও সিন্ডিকেট চিকিৎসকদের বিদেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগ বাধাগ্রস্ত করেছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হচ্ছে এবং আমাদের চিকিৎসকরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করার সুযোগ পাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, চীন ও পাকিস্তানের এই সদিচ্ছা দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবার মানে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, খুব শীঘ্রই এই ফেলোশিপ ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে এবং আগ্রহী চিকিৎসকদের স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত করে বিদেশে পাঠানো হবে। সরকারের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপে চিকিৎসকদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে চলেছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক