ইরাকে দুই দশক অবস্থানের পর দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হলো। ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরুর পর এটি দেশটিতে তাদের দীর্ঘ সামরিক উপস্থিতির সমাপ্তি ঘটল। দীর্ঘ ২৩ বছর পর মার্কিন এই প্রস্থানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান যে, এই ঐতিহাসিক সেনা প্রত্যাহারের পর ইরাকের রাজধানী বাগদাদসহ বিভিন্ন শহরে সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা বাঁধভাঙা উল্লাসে ফেটে পড়েন। রাজপথে নেমে আসা উৎফুল্ল জনতা একে দেশের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের এক বড় বিজয় হিসেবে অভিহিত করছেন। ২০০৩ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রশাসনের নির্দেশে সাদ্দাম হোসেনের সরকারের পতনের লক্ষ্য নিয়ে এই সামরিক অভিযান শুরু হয়েছিল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ এই সংঘাতে ইরাকের অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হাজার হাজার সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে মার্কিন বাহিনীর এই প্রস্থান ইরাকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় একটি নতুন চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগ উভয়ই নিয়ে এসেছে। দেশটির সরকার এখন নিজেদের নিরাপত্তা বাহিনী দিয়েই দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত রক্ষা করার পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করছে।
এই ঘটনার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কৌশলে এক বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এই সংবাদটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে প্রচার করা হচ্ছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য এটি একটি টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক