দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা সামরিক সম্পৃক্ততার অবসান ঘটিয়ে বুধবারের মধ্যে ইরাক থেকে তাদের শেষ ঘাঁটিগুলোও গুটিয়ে নিতে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দুই হাজার তিন সালে সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর থেকে দেশটিতে মার্কিন সেনারা বিভিন্ন কৌশলগত অবস্থানে মোতায়েন ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার সমীকরণ বদলানোর কারণে মার্কিন ও আন্তর্জাতিক জোটের সেনারা এই প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এই প্রস্থান সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বজায় থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো গণমাধ্যমকে জানান।
ইরাক সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাদের নিজস্ব বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। মার্কিন বাহিনীর এই প্রস্থান ইরাকের সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে, যেখানে কেউ কেউ এটিকে স্বাধীনতার পূর্ণতা হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিয়ে সামান্য শঙ্কাও প্রকাশ করছেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক