সন্তান আছে, পরিবার আছে, তবু জীবনের শেষ প্রান্তে এসে একা পড়ে আছেন ৭০ বছরের বেশি বয়সি এক অসহায় বৃদ্ধা। ডাকনাম ফুলি। অসুস্থ এই বৃদ্ধা নিজের নাম-পরিচয়ও ঠিকমতো বলতে পারেন না। হাসপাতালের বিছানায় পড়ে থাকলেও পাশে নেই কোনো স্বজন। গত শুক্রবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের তত্ত্বাবধানে অজ্ঞাত পরিচয় এই বৃদ্ধাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, তার শারীরিক অবস্থা যথেষ্ট দুর্বল এবং বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সমাজের অবহেলিত ও অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর অংশ হিসেবে বাতিঘরের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃদ্ধার পাশে থাকার মতো রক্তসম্পর্কের কেউ এগিয়ে আসেনি। অথচ তার সন্তান ও পরিজন রয়েছে বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। এমন অমানবিক পরিস্থিতিতে সমাজের বিত্তবান ও দায়িত্বশীল মহলে প্রশ্ন উঠেছে পারিবারিক মূল্যবোধ নিয়ে।
সাংবাদিকদের বলেছেন, এই ধরনের প্রবীণ নাগরিকদের সুরক্ষা ও দেখভালের দায়িত্ব কেবল পরিবারেরই নয়, বরং সমাজের প্রতিটি সচেতন নাগরিকের। বৃদ্ধার সঠিক পরিচয় উদ্ধার এবং তার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। মানবিক এই ঘটনাটি এলাকায় গভীর শোক ও প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছে, যেখানে বহু মানুষ স্বজনদের দায়িত্বহীনতার তীব্র সমালোচনা করেছেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক