জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে হোয়াইট হাউসে স্বাগত জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত দুই নেতার শীর্ষ বৈঠকে সৌজন্য ও আনুষ্ঠানিকতার কমতি ছিল না। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, তাইওয়ান কিংবা ইরান ইস্যুর মতো সংবেদনশীল ও বৈশ্বিক গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়গুলোতে দুই দেশের শীর্ষ নেতার মধ্যে কোনো কার্যকর সমঝোতা বা কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জিত হয়নি। বিশ্ব অর্থনীতির দুই পরাশক্তির এই শীর্ষ বৈঠকে দৃশ্যমান কোনো ইতিবাচক ফলাফল না আসায় আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে একধরনের হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।
বৈঠকটি শুরুর আগে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হলেও আলোচনার টেবিলে মতপার্থক্য ছিল স্পষ্ট। বৈশ্বিক বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষা, প্রযুক্তিগত আধিপত্য বিস্তার এবং ভূরাজনৈতিক নানা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দুই নেতার এই সাক্ষাৎ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল বলে জানান আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো উদীয়মান প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ এবং বিশ্ববাজারে আধিপত্য বজায় রাখার প্রতিযোগিতা দুই দেশের সম্পর্কে ছায়া ফেলেছে। এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছিলেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যকার শীতল সম্পর্ক নিরসনে এই বৈঠক বড় কোনো মোড় ঘুরাতে পারত, যা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দুই দেশের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হলেও মূল অমীমাংসিত বিষয়গুলো অপরিবর্তিতই রয়ে গেছে। তাইওয়ান প্রণালীতে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে ইরানের ভূমিকা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের সঙ্গে চীনা নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গির বড় ধরনের ফারাক রয়েছে। ফলশ্রুতিতে, পূর্বনির্ধারিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক থেকে দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলানোর মতো বড় কোনো ঘোষণা আসেনি। বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য যুদ্ধ বা প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক