টাকা চুরির অপবাদে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক এতিম শিশু শিক্ষার্থীকে অমানুষিক নির্যাতনের পর পায়ে শিকল বেঁধে রাতভর রাখা হয় গোয়াল ঘরে। শুধু তাই নয়, নির্যাতনের শিকার শিশুটির মা তাকে উদ্ধারে এগিয়ে এলে তার ওপরও চালানো হয় নির্মম নির্যাতন এবং পরবর্তীতে এই ঘটনায় চিকিৎসায় নানাভাবে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনাটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, বরং আমাদের সমাজ ব্যবস্থার এক নির্মম বাস্তবতার চিত্র ফুটিয়ে তোলে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, সামান্য কিছু টাকার চুরির জুজু দেখিয়ে একটি কোমলমতি শিশুকে যেভাবে পশুর মতো নির্যাতন করা হয়েছে, তা মনুষ্যত্বকে লজ্জিত করে। রাতভর গোয়াল ঘরে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার এই পাশবিক কায়দা বিচারহীনতার সংস্কৃতির ফল বলেই মনে করছেন সচেতন মহল।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, এতিম ওই শিশুটি জীবিকার তাগিদে বা অন্য কোনো কারণে অভিযুক্তদের সান্নিধ্যে গিয়েছিল। সেই সুবাদে তার ওপর এই মিথ্যা অপবাদ চাপিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তার আর্তনাদ শুনে মা ছুটে আসলেও প্রভাবশালী মহলের ভয়ে কেউ এগিয়ে আসার সাহস পায়নি, বরং উল্টো মায়ের ওপরও চড়াও হয় নির্যাতনকারীরা। এই অমানবিক ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলে এবং নির্যাতিত ও তার পরিবারকে চিকিৎসাসেবা নিতেও নানাভাবে বাধা প্রদান করা হয়।
সাংবাদিকদের কাছে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এই ধরনের জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত। অন্যথায় এ ধরনের নৃশংসতা সমাজে আরও বৃদ্ধি পাবে। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং নির্যাতিত শিশু ও তার পরিবারের সুচিকিৎসা ও পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন মানবাধিকার কর্মীরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক