বিশ্বের বিভিন্ন সংকটের মধ্যে গাজার ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা যেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ভুলে না যায়- এমন জোরালো সতর্কবার্তা দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর সংঘটিত নজিরবিহীন হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিশ্বনেতৃবৃন্দের নীরবতা ভাঙার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি ইউক্রেন যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক সংকটগুলোর কথা উল্লেখ করে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।
জাতিসংঘের শীর্ষ এই কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমান বিশ্বে যেভাবে একের পর এক সংকট ঘনীভূত হচ্ছে, তাতে মানবতা আজ এক ক্রান্তিকাল পার করছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গাজায় সাধারণ মানুষের ওপর যে অমানবিক নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড চালানো হচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে এবং স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গাজার পাশাপাশি ইউক্রেনে চলমান সংঘাত বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করছে। পারমাণবিক ঝুঁকির পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার মানবজাতির জন্য নতুন বিপদ ডেকে আনছে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় অবিলম্বে ধনী দেশগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। অন্যথায় পৃথিবীর অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের মহাসচিবের এই বক্তব্য বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির বেহাল দশা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার অসহায়ত্বকেই ফুটিয়ে তুলেছে। ফিলিস্তিনের মজলুম জনগণের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এবং বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে পরাশক্তিগুলোকে সংকীর্ণ স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে। গুতেরেসের এই সতর্কবার্তা বিশ্বনেতাদের বোধোদয়ে কতটা ভূমিকা রাখবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক