প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমানদের বর্তমান পরিস্থিতির এক করুণ চিত্র ফের উন্মোচিত হলো আসামের ধুবড়ি জেলায়। সম্প্রতি সেখানে আদানি পাওয়ার লিমিটেডের একটি ৩২০০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। অথচ এই তথাকথিত উন্নয়নের নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে এক বড় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা। এই বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য প্রায় চৌদ্দশো মুসলিম পরিবারের বসতভিটা ও ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ উচ্ছেদ করা হয়েছে, যা নিয়ে স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সাংবাদিকদের বলেছেন, আসাম সরকারের এই উচ্ছেদ অভিযানের ফলে শত শত মানুষ আজ খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। বছরের পর বছর ধরে বসবাস করা পৈতৃক ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তারা। ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করেছেন, কোনো ধরনের পুনর্বাসন ছাড়াই তাদের ওপর এই বুলডোজার চালানো হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, উন্নয়নের নামে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে বাস্তুচ্যুত করার এই রাজনীতি অত্যন্ত অমানবিক এবং এর পেছনে কর্পোরেট স্বার্থ কাজ করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সংখ্যালঘুদের ওপর এ ধরনের চাপ প্রয়োগ নতুন কিছু নয়। আসামে মূলত রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং বড় বড় শিল্পপতিদের সুবিধা দিতেই সাধারণ মানুষের ওপর এমন খড়্গ নামিয়ে আনা হচ্ছে। অথচ যাদের ঘামে ও পরিশ্রমে দেশ গড়ার কথা, সেই দরিদ্র মুসলিম পরিবারগুলো আজ নিজেদের দেশেই পরবাসী। অবিলম্বে এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া বন্ধ করে ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার কর্মীরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক