চট্টগ্রাম মহানগরীতে ভবন নির্মাণে প্রচলিত আইন ও বিধিমালা কঠোরভাবে মানার সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতা বিদ্যমান থাকলেও, বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহারকারী প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে তা নিয়মিতভাবে উপেক্ষার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নগরীর প্রাণকেন্দ্র ও অত্যন্ত জনবহুল চেরাগী পাহাড় মোড়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) কোনো ধরনের বৈধ অনুমোদন বা ছাড়পত্র ছাড়াই বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের নির্মিত সুবিশাল ২২ তলা ভবনটি এখনো সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে, যা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
শুধু তাই নয়, একইসঙ্গে নগরীর অভিজাত ও সংবেদনশীল এলাকা জামালখানে পাহাড় কেটে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে নির্মাণাধীন আরেকটি ১৭ তলা ভবনের কাজও থেমে নেই। এ ধরনের বেআইনি ও অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ কেবল নগরীর পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্যই হুমকিস্বরূপ নয়, বরং এটি সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং আইনের শাসনের প্রতি এক চরম উপহাস। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে গড়ে ওঠা বিভিন্ন সিন্ডিকেট ও দুর্নীতিবাজচক্রের প্রত্যক্ষ ছত্রছায়ায় এসব অবৈধ স্থাপনা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল।
বিশেষজ্ঞ মহল ও স্থানীয় নাগরিকরা মনে করছেন, কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় এস আলম গ্রুপের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বেআইনি কার্যক্রম নগরবাসীর জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ তথা সিডিএ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার জোরালো ও দৃশ্যমান তদারকির অভাবকেই এই আইন লঙ্ঘনের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন সংবাদকর্মীরা। পরিবেশ রক্ষা এবং সিডিএর মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে এই অবৈধ ও অনুমোদনহীন বহুতল ভবনগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত এবং কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক