মাঠপর্যায়ের ভূমি কার্যালয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মস্থলে সময়মতো উপস্থিতি এবং কার্যক্রম নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে একটি নতুন ডিজিটাল মাধ্যম। এর নাম দেওয়া হয়েছে ভূমি দৃষ্টি অ্যাপ। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষ সেবা নিতে গিয়ে কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতিজনিত হয়রানির হাত থেকে রক্ষা পাবেন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে।
বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান এই আধুনিক অ্যাপটির শুভ উদ্বোধন করেন। এ সময় মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হলো জনগণের দোরগোড়ায় সহজে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া। মাঠপর্যায়ের অফিসগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে উপস্থিতি নিয়ে নানা ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল, যা দূর করতেই এই প্রযুক্তিভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে ভূমিমন্ত্রী আরও বলেন, এই অ্যাপটি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিটি ভূমি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দৈনিক উপস্থিতি এবং তাদের কার্যক্রম রিয়েল-টাইমে মনিটরিং করা সম্ভব হবে। কেউ দায়িত্বে অবহেলা করলে বা অফিসে অনুপস্থিত থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে তা কেন্দ্রীয়ভাবে নজরে আসবে এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলেও বিভিন্ন সময় নজরদারির কথা বলা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। কিন্তু বর্তমান প্রশাসনের অধীনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে এই অ্যাপটি একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ জমিজমা সংক্রান্ত কাজে ভূমি অফিসে গিয়ে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছিলেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঠিক সময়ে না পাওয়ার অভিযোগ ছিল নিত্যদিনের। বর্তমান সরকারের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি, প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাদের সময় অপচয় রোধ হবে এবং ভূমি খাতের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক