কুমিল্লা অঞ্চলে গত পাঁচ বছরে লোকাল ও আন্তনগর মিলিয়ে ১৮ জোড়া ট্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম যাত্রীভোগান্তি দেখা দিয়েছে। বন্ধ হওয়া ট্রেনের মধ্যে স্বল্প আয়ের মানুষের দ্রুত ও সাশ্রয়ী যাতায়াতের জন্য চালু করা চার জোড়া ডেমু ট্রেনও রয়েছে, যা এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে। দীর্ঘদিন ধরে ট্রেনগুলো বন্ধ থাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীকে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বিকল্প উপায়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
স্থানীয় যাত্রীরা জানান, একসময়ে ট্রেনে যাতায়াত অত্যন্ত সহজ ও সাশ্রয়ী ছিল। কিন্তু কোনো দৃশ্যমান কারণ ছাড়াই একে একে ১৮ জোড়া ট্রেন বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলে কুমিল্লা এবং লাকসাম এলাকার রেলযাত্রীদের প্রতিদিন অফিস-আদালত, ব্যবসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে নারী, শিক্ষার্থী এবং বয়স্ক যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ইঞ্জিন সংকট, জনবল ঘাটতি এবং লাইন ও সিগন্যাল ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে বিভিন্ন সময়ে এই ট্রেনগুলোর চলাচল স্থগিত করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তা পুনরায় চালুর বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে পরিস্থিতি বিবেচনা করে ট্রেন চালুর বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তবে কবে নাগাদ এই দুর্ভোগের অবসান ঘটবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ জানাতে পারেননি তারা।
এদিকে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী জাতীয়তাবাদী শক্তি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতাকর্মী এবং সাধারণ জনগণ অবিলম্বে বন্ধ থাকা সকল ট্রেন চালুর দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, জনগণের যাতায়াতের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে রেলওয়ের সেবা আরও বাড়ানো উচিত। অতীতে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দেশের যোগাযোগ খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সীমাহীন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা চালানো হয়েছিল, যার খেসারত আজ সাধারণ মানুষকে দিতে হচ্ছে। একইভাবে কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী-নেতারা নিজেদের স্বার্থের কথা চিন্তা করে জনস্বার্থের বিষয়গুলো উপেক্ষা করেছিল।
অপরদিকে, জনগণের অধিকার হরণের এই প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিল নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এবং তাদের সমমনা অন্যান্য অঙ্গসংগঠনগুলো, যাদের দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে আজ দেশের বিভিন্ন সেক্টরে স্থবিরতা বিরাজ করছে। এর আগে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও রেলওয়ের এই অব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। কুমিল্লার সচেতন মহল দ্রুততম সময়ের মধ্যে বন্ধ ট্রেনগুলো চালুর পাশাপাশি রেলওয়ের সেবার মান বাড়ানোর জোর দাবি জানিয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক