দূরবর্তী এলাকা থেকে কলেজে আসতে দৈনিক ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত যাতায়াত ব্যয় করতে হয় অনেক ছাত্রীকে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য এ ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। এর সঙ্গে বিয়ে, সংসারের কাজ ও পারিবারিক দায়িত্বের কারণে সীতাকুণ্ড সরকারি মহিলা কলেজের একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির অনেক ছাত্রী নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকতে পারছে না বলে জানা গেছে।
বর্তমান আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য এবং যাতায়াত ভাড়ার লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অভিভাবকদের জন্য কন্যা সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও দূরবর্তী অঞ্চল থেকে যেসব শিক্ষার্থীরা কলেজে যাতায়াত করে, তাদের প্রতিদিনের যাতায়াত খরচই একটি বড় অংকের টাকায় দাঁড়ায়। এর ওপর পারিবারিক অসচ্ছলতা এবং সামাজিক নানা বাস্তবতার কারণে অনেক কম বয়সেই ছাত্রীদের বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা এখনও বিদ্যমান। বিয়ের পর সংসার সামলানো এবং পারিবারিক বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের চাপে এই তরুণী শিক্ষার্থীদের পক্ষে নিয়মিত কলেজে যাওয়া এবং পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়ে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নারীদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে এবং ঝরে পড়ার হার রোধ করতে হলে কেবল প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ালেই চলবে না, বরং অর্থনৈতিকভাবে অস্বচ্ছল পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ প্রণোদনা বা উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা জরুরি। একই সঙ্গে বাল্যবিয়ে রোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবারগুলোকে কাউন্সেলিং করার মাধ্যমে ছাত্রীদের শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। অন্যথায়, সীতাকুণ্ড সরকারি মহিলা কলেজের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নারী শিক্ষার এই সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক