মোবাইলে একটি বার্তা এলো আপনার অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে, বিশেষ অফারটি পেতে এখনই ক্লিক করুন কিংবা সাবস্ক্রিপশন নবায়ন করুন। সঙ্গে একটি লিংক। লিংকে ঢুকতেই চাওয়া হলো মোবাইল নম্বর, পাসওয়ার্ড বা অন্য কোনো তথ্য। কখনো বলা হলো, একটি অ্যাপ ইনস্টল করতে হবে। ব্যবহারকারী না বুঝে অনুমতি দিয়ে ফেললেন। বর্তমান সময়ে সাইবার অপরাধের মাত্রা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে চরমভাবে ব্যাহত করছে। এই প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাইবার অপরাধ দমনে তৎপরতা আরও জোরদার করেছে।
সম্প্রতি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যৌথ অভিযান চালিয়ে একটি আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারক চক্রের ৬৩ জন সদস্যকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গণমাধ্যমকে জানান হয়েছে যে, দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিয়ে ডিজিটাল মাধ্যমে আর্থিক প্রতারণা চালিয়ে আসছিল। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্র নির্মূলে কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানই যথেষ্ট নয়, বরং সাধারণ জনগণের মাঝে সাইবার সচেতনতা বৃদ্ধি করাও অত্যন্ত জরুরি। অতীতেও স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সাইবার নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করা হলেও প্রকৃত অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বর্তমান সময়ে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে যাতে এ ধরনের প্রতারণার শিকার সাধারণ মানুষ না হয়।
আটকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ এবং ভুয়া রেজিস্ট্রেশনকৃত সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে। এই চক্রের মূল হোতা এবং তাদের আন্তর্জাতিক সংযোগগুলো খতিয়ে দেখতে পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট বর্তমানে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনায় দেশের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাইবার জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। সাধারণ নাগরিকদেরও এ বিষয়ে সতর্ক থাকার এবং অপরিচিত কোনো লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক