স্বামী হারানোর পর দুই মেয়েকে নিয়ে জীবনযুদ্ধে নেমেছিলেন রত্না মণ্ডল। ২০১৩ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর পরিবারের একমাত্র অবলম্বন হয়ে ওঠেন তিনি। চিংড়ি ঘেরই ছিল তার আয়ের প্রধান উৎস। নিজের হাতে চাষ করে উৎপাদিত মাছ স্থানীয় ডিপোতে বিক্রি করেই চালাতেন সংসার। অনার্স শেষ করার পর বড় মেয়ে পায়েলের বিয়ে দিয়ে শুরু হয় তার জীবনের নতুন এক সংগ্রাম। তবে হাল ছাড়েননি রত্না, বরং নিজের প্রচেষ্টাকে আরও দৃঢ় করেন।
বর্তমানে হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানির ভ্যালু চেইনে সরাসরি যুক্ত হয়েছেন রত্নার মতো অনেক প্রান্তিক চাষি। আগে মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে চাষিরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হতেন। তবে আধুনিক ট্রেসঅ্যাবিলিটি এবং নিরাপদ চাষাবাদ পদ্ধতির কারণে এখন সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারের মানদণ্ড অনুযায়ী চিংড়ি উৎপাদন করছেন তারা। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন এসব নারী উদ্যোক্তা ও চাষিরা।
স্থানীয় অর্থনীতিতে এই পরিবর্তন এনেছে এক অভাবনীয় গতিশীলতা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চিংড়ি খাতের এই ভ্যালু চেইন উন্নয়ন ভবিষ্যতে দেশের ব্লু ইকোনমি এবং গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচনে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে। সরকারের পক্ষ থেকেও চাষিদের প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা দেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে, যা এই শিল্পকে আরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে বলে গণমাধ্যমকে জানান সংশ্লিষ্টরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক