গাজীপুরে পানিতে ভাসমান একটি স্যুটকেস থেকে এক নারীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকার একটি কালভার্টের নিচ থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশটি উদ্ধার করা হয়। এই পৈশাচিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে ভবানীপুর এলাকার একটি কালভার্টের নিচে পানিতে একটি লাল রঙের স্যুটকেস ভাসতে দেখেন স্থানীয় পথচারীরা। স্যুটকেসটি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ালে এবং এর আশপাশে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি দেখে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় গাজীপুর সদর থানা পুলিশ এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক দল।
পরবর্তীতে পুলিশ ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার উপস্থিতিতে স্যুটকেসটি খোলা হলে ভেতরে এক নারীর খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পাওয়া যায়। মরদেহের বিভিন্ন অংশ কেটে আলাদা করা হয়েছিল, যা দেখে ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনের মাঝে শিহরণ জাগে। পুলিশ জানায়, নিহতের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তার বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ বছর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেছেন, এটি একটি পরিকল্পিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড। দুর্বৃত্তরা অন্য কোথাও ওই নারীকে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে টুকরো টুকরো করে স্যুটকেসে ভরে এখানে ফেলে গেছে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের পরিচয় শনাক্ত করতে এবং এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করতে পুলিশ, পিবিআই এবং গোয়েন্দা দল যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে এবং নিখোঁজ নারীদের তালিকার তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। খুব দ্রুতই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশ্বস্ত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক