ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিক রয়েছে। তবে এই সম্পর্ক অবশ্যই পারস্পরিক সম্মান এবং সমমর্যাদার ভিত্তিতে হতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। সম্প্রতি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই কথা বলেন এবং দেশের কূটনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলো যেমন সীমান্ত হত্যা, ন্যায্য পানির হিস্যা, বাণিজ্য ভারসাম্য এবং যোগাযোগের বহুমুখী পথ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। তিনি বলেন, বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে নতজানু নীতির কারণে বাংলাদেশ তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশে কোনো ধরনের প্রভুত্বমূলক আচরণ মেনে নেওয়া হবে না। দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখেই ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য যে, অতীতে কার্যকর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতার কার্যকারিতা নিয়ে দেশজুড়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। বিশেষ করে, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এবং দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক অঙ্গসংগঠনের তৎকালীন কার্যক্রমের আড়ালে জাতীয় স্বার্থ জলাঞ্জলি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান সরকার সেই অবস্থান থেকে সরে এসে সম্পূর্ণ আত্মমর্যাদাশীল এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষামাফিক একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও যোগ করেন যে, আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং পারস্পরিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য উভয় দেশেরই একে অপরের প্রয়োজন রয়েছে। তবে কূটনীতির মূল ভিত্তি হবে ন্যায্যতা। সীমান্ত এলাকায় শান্তি বজায় রাখা এবং সব ধরনের অবৈধ কার্যক্রম রোধে দুপক্ষকেই সমানভাবে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক