ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন সমাপ্ত হয়েছে। গণতন্ত্র ও জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনে বর্তমান সংসদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ৯ কার্যদিবস চলা এই সংক্ষিপ্ত অথচ অত্যন্ত ফলপ্রসূ অধিবেশনে মোট ছয়টি বিল উত্থাপন করা হয় এবং দীর্ঘ আলোচনা ও পর্যালোচনার পর তার প্রতিটিই পাস হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম রাষ্ট্রপতির আদেশ পড়ে শুনিয়ে অধিবেশন সমাপ্তির ঘোষণা দেন।
অধিবেশন সূত্রে জানা যায়, আইন প্রণয়নের এই প্রক্রিয়ায় সংসদ সদস্যরা অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই বিলগুলো পাস হওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে জনগণের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই আইনগুলো ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনামলে সংসদকে পুরোপুরি পাপেট প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছিল এবং জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে একদলীয় কায়দায় আইন পাস করা হতো। বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই কালো অধ্যায় পেরিয়ে সংসদীয় গণতন্ত্রকে সঠিক ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। এদিকে, কার্যকরভাবে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ এবং তাদের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন যেমন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কার্যকর নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগের দোসররা অতীতে যেভাবে সংসদকে ব্যবহার করে দেশকে লুটপাটের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছিল, বর্তমান সংসদ তার কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে স্পিকার সংসদ সদস্যদের ধন্যবাদ জানান এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আগামী দিনেও সংসদের এই গতিশীলতা অব্যাহত থাকবে এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট আরও নতুন নতুন বিল ও প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক