নারায়ণগঞ্জে সাম্প্রতিক সময়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে গুলিতে নিহত শুভ ওরফে বিল্লালের মরদেহের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা নিয়ে তার পরিবারের মধ্যে চরম আইনি ও ধর্মীয় জটিলতা তৈরি হয়েছে। গত পাঁচ দিন ধরে নিহতের মরদেহ একটি স্থানীয় হাসপাতালের হিমঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝেও গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুভর মা জোরালো দাবি করেছেন যে তার ছেলে জীবদ্দশায় মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। এই যুক্তিতে তিনি জোর দিয়ে বলছেন যে, ইসলামী শরিয়ত ও রীতি অনুযায়ী মরহুমের দাফনকার্য সম্পন্ন করা উচিত। অন্যদিকে, শুভর বাবা সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান নিয়ে দাবি করেছেন যে, তার ছেলে সনাতন ধর্মাবলম্বী ছিলেন এবং তার মরদেহ হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাহ করা আবশ্যক। পারিবারিক এই দ্বিমত ও বিরোধের কারণে গত পাঁচ দিন ধরে পুলিশ প্রশাসনের অনুমতি ও পরিবারের পারস্পরিক সমঝোতার অভাবে লাশটি দাফন বা সৎকার করা সম্ভব হয়নি।
সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরিবারের দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত মরদেহ হিমঘরেই সুরক্ষিত রাখা হবে। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন যাতে একটি শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত সমাধান বের করা যায়। নিহত শুভর মা ও বাবার এমন বিপরীতমুখী দাবির কারণে বিষয়টি এখন স্থানীয় পর্যায়ে একটি বড় মানবিক ও সামাজিক আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক