স্বপ্নের পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের পর রাজবাড়ীসহ ১৯ জেলার মানুষের মধ্যে এক ধরনের প্রাণচাঞ্চল্য, আনন্দ ও আবেগ তৈরি হয়েছে। সুন্দর আগামীর এক স্বপ্ন এখন বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই মেগা প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে এবং মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি সরেজমিন পর্যালোচনা করতে আগামী রাজবাড়ী সাইট পরিদর্শনে যাচ্ছেন সরকারের একজন উপদেষ্টা এবং তিন জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী।
গত ১৩ মে ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোটি মানুষের মনে এক নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পানিবন্দীতা, নদীভাঙন এবং সেচ সংকটে ভোগা এই অঞ্চলের বাসিন্দারা এখন মুখিয়ে আছেন কবে নাগাদ দৃশ্যমান হবে এই বিশাল প্রকল্পের কাজ।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলটি রাজবাড়ীর প্রস্তাবিত ব্যারাজ এলাকা ঘুরে দেখবেন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, নদী বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এর মাধ্যমে প্রকল্পের প্রাথমিক সম্ভাব্যতা ও পরিবেশগত বিষয়গুলো আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক মেগা প্রকল্পগুলো ফাইলবন্দী করে রাখা হয়েছিল এবং কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছিল দেশের সাধারণ মানুষকে। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। রাজবাড়ীসহ সংশ্লিষ্ট ১৯ জেলার কৃষিজমি রক্ষা এবং নদী শাসন ব্যবস্থার উন্নয়নে পদ্মা ব্যারাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা গণমাধ্যমকে জানান।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক