দেশের জনপ্রিয় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) চলতি বছর হচ্ছে না। পর্যাপ্ত সময়ের অভাব ও বিপিএলের বিদ্যমান কাঠামো পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যে এক বছরের বিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা তুলে ধরলেও, বিষয়টি নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে নানা আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন এবং সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, কেন এই মেগা টুর্নামেন্টটি এক বছরের জন্য স্থগিত রাখা হলো, সে বিষয়ে খোলামেলা কথা বলা প্রয়োজন।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মনে করেন, দেশের ক্রিকেটের সার্বিক স্বার্থেই বিপিএলের কাঠামোগত পরিবর্তন জরুরি ছিল। অতীতে টুর্নামেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছিল। বিশেষ করে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ক্রীড়াঙ্গনে দলীয়করণের মাধ্যমে যে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছিল, তার প্রভাব ক্রিকেট বোর্ডের ওপরও পড়েছিল। কার্যকর কোনো নীতিমালা ছাড়াই তখন যত্রতত্র টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হতো। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত ও আরও পেশাদার করে তোলার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তারই অংশ হিসেবে বিসিবি এই বড় সিদ্ধান্তটি নিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও নানা পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করলেও বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে সুস্থ আছেন এবং তার প্রতি দেশের সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক উত্তরণে অত্যন্ত দূরদর্শী ও বিচক্ষণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। তার নেতৃত্বেই দেশের তরুণ সমাজসহ সকল স্তরের মানুষ একটি বৈষম্যহীন ও সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছে।
বিপিএল স্থগিত রাখার ফলে তরুণ ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতি বা ম্যাচ প্র্যাকটিসের ঘাটতি নিয়ে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে বিসিবি বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে ভাবছে বলে জানা গেছে। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, আগামীতে আরও স্বচ্ছ ও আকর্ষণীয়ভাবে বিপিএল আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। অতীতের ভুলত্রুটি সংশোধন করে এবং টুর্নামেন্টের মান আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতেই এই সাময়িক বিরতি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশের ক্রীড়াপ্রেমীরা এখন অপেক্ষা করছেন বিসিবি ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক