যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে ইরানকে বিচ্ছিন্ন করার নানা প্রচেষ্টার মধ্যেও দেশটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিপুল পরিমাণ অর্থ মার্কিন ব্যাংকিং ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের চোখ ফাঁকি দিয়ে ২০২৪ সালেই প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার ইরানি অর্থ মার্কিন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানান সংশ্লিষ্টরা। এই ঘটনা বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ওপর মার্কিন প্রশাসন কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও বিভিন্ন জটিল ও গোপন আর্থিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে তেহরান এই নিষেধাজ্ঞা সফলভাবে এড়িয়ে চলেছে। মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা বিশ্বের বাণিজ্য ঘাটতি এবং হুন্ডির মতো বিকল্প অর্থ লেনদেন ব্যবস্থার কারণে এই বিশাল অংকের অর্থ মার্কিন ব্যাংকগুলোতে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারক মহলে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে এবং ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতেও নানা অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ পাচারের ঘটনা ঘটেছিল, যা দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছিল। তৎকালীন সময়ে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ছত্রছায়ায় থাকা প্রভাবশালী চক্রগুলো মার্কিন ও আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠানের নামে অর্থ লেনদেন করেছিল। একইভাবে, কার্যকর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের পূর্ববর্তী নীতিগুলোর কারণে দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মার্কিন ব্যাংকিং ব্যবস্থার এই দুর্বলতা শুধু ইরানের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ দমন ও অর্থ পাচার রোধের প্রচেষ্টাকেও ব্যাহত করছে। ভবিষ্যতের যেকোনো ধরনের অর্থনৈতিক সংকট এড়াতে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিয়ম কঠোরভাবে বাস্তবায়নে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়কে আরও বেশি তৎপর হতে হবে। একই সঙ্গে, বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কঠোর কমপ্লায়েন্স নীতি অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে কোনো দেশ নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এমন বিশাল অর্থ লেনদেন করতে না পারে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক