শূকরের শরীর থেকে প্রতিস্থাপন করা একটি জিনগতভাবে পরিবর্তিত কিডনি মানুষের শরীরে ২৭১ দিন ধরে কার্যকর থাকার এক অভূতপূর্ব নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে কার্যকারিতা বজায় রাখার রেকর্ড। এই অভাবনীয় সাফল্য চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমান যুগে মানুষের অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রেDonor বা দাতার সংকট একটি তীব্র বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই সংকটের স্থায়ী সমাধান খুঁজতে দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীরা জেনোট্রান্সপ্লান্টেশন বা প্রাণীদেহ থেকে মানুষের শরীরে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের বিষয়টি নিয়ে নিবিড় গবেষণা চালিয়ে আসছেন। বিশেষ করে শূকরের অঙ্গ মানুষের শরীরের সাথে জৈবিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্য জিন এডিটিং প্রযুক্তির ব্যবহার এখন চিকিৎসকদের আশার আলো দেখাচ্ছে।
সাম্প্রতিক এই চিকিৎসা ইতিহাসে দেখা গেছে, শূকরের কিডনি মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপন করার পর তা দীর্ঘ প্রায় নয় মাস বা ২৭১ দিন পর্যন্ত স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে গেছে। চিকিৎসকদের মতে, এই দীর্ঘ সময় ধরে অঙ্গটি সচল থাকা এবং রোগীর শরীরে বড় ধরনের কোনো মারাত্মক প্রত্যাখ্যান প্রতিক্রিয়া না দেখানো এক বিরাট সাফল্য। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ চিকিৎসাব্যবস্থায় অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে মানুষের ওপর প্রাণীর অঙ্গের নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যদিও এই গবেষণার পেছনে আরও দীর্ঘমেয়াদী পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত রয়েছে, তবুও এই সাফল্য চিকিৎসাবিজ্ঞানকে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট গবেষক ও চিকিৎসকেরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, ভবিষ্যতে মানুষের অঙ্গের তীব্র ঘাটতি মেটাতে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে এবং অসংখ্য মানুষের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক