পাকিস্তানের পার্লামেন্ট আগস্টের শেষ দিকে এমন দুটি আইন পাস করেছে, যার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো দেশের সর্বোচ্চ সামরিক পদ চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস বা সিডিএফ-এর ক্ষমতা স্পষ্টভাবে বিধিবদ্ধ হয়েছে। গত বছরের ২৭তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে তৈরি এই পদটি এখন কার্যকরভাবে দেশটির সামরিক কমান্ড কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই আইনি সংস্কার পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ও রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি করতে যাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরেই দেশটির রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে আসছে। অতীতে বিভিন্ন সময় গণতান্ত্রিক সরকারগুলোর ওপর সামরিক হস্তক্ষেপের ইতিহাস রয়েছে। বর্তমান এই পরিবর্তন সামরিক বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামুকে আরও সুসংহত করবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গবেষকরা। বিশেষ করে দেশটির পারমাণবিক অস্ত্রাগার এবং কৌশলগত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর সর্বোচ্চ কমান্ড কার হাতে থাকবে, তা এই নতুন আইনের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে।
এই পরিবর্তনের ফলে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর তিন শাখা অর্থাৎ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে একই সাথে বেসামরিক সরকারের সাথে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতার দ্বৈরথ নতুন কোনো মোড় নেয় কিনা, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সম্পর্কের সমীকরণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও এই সামরিক সংস্কারের সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক