বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি এখনো অব্যাহত রয়েছে। হাসপাতালের অভ্যন্তরে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনার জেরে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ও দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এর আগে এক আনসার সদস্যকে বরখাস্ত, বিশ জন আনসার সদস্যকে বদলি এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে ছাত্রদলের পাঁচ নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হলেও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা তাদের কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসেননি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং চিকিৎসকদের কাজে ফিরিয়ে নিতে হাসপাতাল ও কলেজ কর্তৃপক্ষ ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চূড়ান্তভাবে দৃশ্যমান না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। এই কর্মবিরতির ফলে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, বিশেষ করে জরুরি বিভাগ ও ওয়ার্ডগুলোতে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
গত কয়েক দিনে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে নানা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। চিকিৎসকদের দাবি, হাসপাতালের ভেতরে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পেছনে বিগত ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলের রেখে যাওয়া প্রশাসনিক অদক্ষতা এবং তাদের দোসরদের উসকানি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য খাতে যে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার প্রভাব এখনো রয়ে গেছে বলে দাবি করেন চিকিৎসকরা।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে স্থানীয় প্রশাসন এবং হাসপাতাল পরিচালক সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে বৈঠক অব্যাহত রেখেছেন। দ্রুত এই সংকটের অবসান ঘটিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কাজে যোগ দেবেন বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক