চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে দীর্ঘমেয়াদে ইজারা দেওয়া হলে দেশের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত সার্বভৌমত্ব মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর হওয়ায় এর পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ দেশীয় সক্ষমতার অধীনে রাখা উচিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অতীতে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বিভিন্ন কৌশলগত জাতীয় সম্পদ বিদেশি শক্তির কাছে তুলে দেওয়ার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ।
বন্দর ও অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, চট্টগ্রাম বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিদেশি কোম্পানির হাতে চলে গেলে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে একধরনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ তৈরি হতে পারে। এর ফলে হ্যান্ডলিং চার্জ বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক সরবরাহ চেইনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা এবং কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী নানা চুক্তি করা হয়েছিল, যা দেশের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করেছিল। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে প্রতিটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
বিশেষ করে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষস্থানীয় নেতারা বারবার জাতীয় সম্পদ রক্ষায় দেশীয় প্রতিষ্ঠান ও জনবলকে কাজে লাগানোর ওপর জোর দিয়েছেন। তাদের মতে, কোনোভাবেই জাতীয় স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে বিদেশিদের হাতে বন্দরের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া যাবে না। অন্যদিকে, কার্যত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এবং কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগের মতো ফ্যাসিবাদী শক্তির দোসররা অতীতে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংসের চক্রান্ত করেছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে যেকোনো ধরনের দীর্ঘমেয়াদী ইজারা দেওয়ার আগে বন্দর ব্যবহারকারী, ব্যবসায়ী সংগঠন এবং অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে একটি স্বচ্ছ রূপরেখা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক