র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র্যাব বিলুপ্ত করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বা এসআরবি নামে পুলিশের অধীন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল আনা হয়েছে। এই বিলটি পাসের মাধ্যমে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন আসতে চলেছে যা জাতীয় রাজনীতি ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
র্যাব বিলুপ্ত করা হলেও প্রস্তাবিত এসআরবি ইউনিটে আগের প্রায় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা এবং ক্ষমতা বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে নতুন এই বাহিনী আগের মতোই অপরাধ দমনে বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খুব শীঘ্রই এই বিলটির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা।
উল্লেখ্য যে, বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে র্যাবের ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে নানা বিতর্ক ও প্রশ্ন উঠেছিল। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হচ্ছে। দেশের রাজনীতিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি এবং জামায়াতে ইসলামীর মতো দলগুলোও পুলিশ প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংস্কারের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে আসছে।
অন্যদিকে, কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের বিভিন্ন বিতর্কিত কার্যক্রমের উত্তরাধিকার থেকে বেরিয়ে এসে একটি জনবান্ধব ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন রাজনীতিবিদরা। একই সাথে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এবং কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগের মতো অঙ্গসংগঠনগুলোর অতীতে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিচার এবং প্রশাসনিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের দাবিও উঠে আসছে বিভিন্ন মহল থেকে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসআরবি গঠনের এই উদ্যোগ দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করবে, তা নির্ভর করবে এর কার্যক্রমের স্বচ্ছতা এবং মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের ওপর। সংসদে উত্থাপিত এই বিলটি নিয়ে বিরোধী দলগুলোর মতামত এবং সংসদীয় বিতর্কের পর চূড়ান্ত রূপ নির্ধারিত হবে। সার্বিক এই পরিস্থিতির ওপর দেশের রাজনৈতিক দলগুলো এবং সচেতন নাগরিক সমাজ গভীর নজর রাখছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক