রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদ-নদীর দখল ও দূষণ রোধ করে নদীর স্বাভাবিক নাব্য রক্ষা এবং দখল হয়ে যাওয়া নদ-নদীগুলো পুনরুদ্ধারের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের কেন্দ্রীয় সেল গঠন করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ সেল গঠনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। দীর্ঘ দিন ধরে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলো অবৈধ দখল এবং শিল্পবর্জ্যের দূষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে বর্তমান সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলের নির্দেশে এই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা নদী বাঁচানোর আন্দোলনে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
গঠিত এই কেন্দ্রীয় সেলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা দায়িত্ব পালন করবেন। নদী রক্ষা কমিশনের পাশাপাশি এই সেল সরাসরি মাঠপর্যায়ে তদারকি করবে এবং নদী দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে নদী উদ্ধারের নামে নানা লোক দেখানো প্রজেক্টের কথা বলা হলেও বাস্তবে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ দেখা যায়নি, বরং বিভিন্ন প্রভাবশালী মহল নদীগুলো গ্রাস করেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকারের সময়ে পরিবেশ রক্ষা ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই নতুন সেল গঠন করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার চারপাশের নদ-নদী রক্ষা করা কেবল পরিবেশগত ব্যাপার নয়, এটি রাজধানীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক অস্তিত্বের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তাই এই কেন্দ্রীয় সেলের মাধ্যমে দ্রুত নদীগুলোর ক্যাপিটাল ড্রেজিং, ওয়াকওয়ে নির্মাণ এবং সীমানা পিলার স্থাপনের কাজ আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ ও পরিবেশবাদীরা সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে এবার অন্তত নদীগুলো তাদের হারানো প্রাণ ফিরে পাবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক