বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৭ অপরাহ্ন

মোদি সরকারের জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন

আরব-বাংলা রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১:৫৫ অপরাহ্ণ

মূল্যবৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির চাপের মধ্যেই ভারতের অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়ে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বলে দাবি করেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এপ্রিল-জুন, অর্থাৎ প্রথম প্রান্তিকে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৭.৮ শতাংশ। তবে সরকারি এই পরিসংখ্যান এবং প্রকৃত অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে বড় ফারাক রয়েছে বলে দাবি করেছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিভিন্ন স্বাধীন গবেষণা সংস্থা এবং অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারি প্রাক্কলনে মুদ্রাস্ফীতির প্রকৃত প্রভাব এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি। তাদের সুনির্দিষ্ট হিসাব অনুযায়ী, ভারতের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার মোদি সরকারের দাবীকৃত ৭.৮ শতাংশের ধারেকাছেও নেই, বরং তা মাত্র ২.৬ শতাংশের কাছাকাছি হতে পারে। এই ব্যবধান নিয়ে দেশের অর্থনীতিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, একদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং অন্যদিকে কর্মসংস্থানের স্থবিরতা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। এ অবস্থায় সরকারি খাতের বড় অংকের বিনিয়োগ এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের খতিয়ান দিয়ে সামগ্রিক অর্থনৈতিক চিত্রকে যতটা উজ্জ্বল দেখানো হচ্ছে, তৃণমূল স্তরে তার কোনো বাস্তব প্রতিফলন নেই। সাধারণ ভোক্তা বাজারের চাহিদা ক্রমাগত কমছে, যা অর্থনীতির অভ্যন্তরীণ শক্তির দুর্বলতাকেই নির্দেশ করে।

এমন এক সময়ে এই তথ্য সামনে এসেছে যখন পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। বাংলাদেশে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতন এবং পরবর্তীতে কার্যকর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বিলুপ্তির পর একটি গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। অন্যদিকে, ভারতের এই অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের অসংগতি বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের মতো বৈশ্বিক সংস্থাগুলোর নজরেও এসেছে, যা মোদি সরকারের নীতিগত স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

আরববাংলা টিভি/ডেস্ক

শেয়ার করুন

আরো
© All rights reserved © arabbanglatv

Developer Design Host BD