গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে তা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে জমা না দেওয়ার এক অভিনব জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। অভিযুক্তরা গ্রাহকদের জমা দেওয়া অর্থ নিজেদের পকেটে ভরতেন, অথচ প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সফটওয়্যারে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে তা জমা হয়েছে বলে প্রদর্শন করতেন। এই জালিয়াতির মাধ্যমে তারা প্রায় ১৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। প্রাথমিক তদন্তে এই আর্থিক অনিয়মের সত্যতা মিলেছে, যা নিয়ে কর্পোরেট ও অর্থনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, অভিযুক্তরা কেবল সফটওয়্যারে জালিয়াতি করেই ক্ষান্ত হননি, তারা আরও নানা উপায়ে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। কখনো কখনো প্রতিষ্ঠানের মালিকের সই করা ফাঁকা চেকে প্রাপকের নাম কৌশলে বদলে ফেলতেন এবং সেই সুযোগ নিয়ে ব্যাংক থেকে বড় অংকের অর্থ সরিয়ে নিতেন। দীর্ঘ দিন ধরে অত্যন্ত সুকৌশলে এই অপকর্ম চালিয়ে গেলেও সম্প্রতি অভ্যন্তরীণ অডিট ও নজরদারিতে বিষয়টি ধরা পড়ে। এ ধরনের আর্থিক অপরাধ অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করে তোলে এবং সাধারণ গ্রাহকদের আস্থার ওপর বড় ধরনের আঘাত হানে।
জাতীয় অর্থনীতি ও আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গভীরভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং জালিয়াতির সঙ্গে সরাসরি জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধারের জন্য আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপগুলো জোড়দার করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের জালিয়াতি রোধে সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক