অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় জড়িত দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানাবে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন সাংবাদিকদের এই কথা জানিয়েছেন। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই অনভিপ্রেত ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে এবং দেশের কূটনৈতিক মহলেও এর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মতো একজন আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানিত ব্যক্তিত্বকে হেনস্তা করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে বর্তমান সরকার। এই ঘটনার নেপথ্যে কার বা কাদের উস্কানি ছিল এবং কারা এর সাথে সরাসরি জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে খুব শীঘ্রই যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বার্তা পাঠানো হবে বলে নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলতে না পারে, সেজন্য মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলের রেখে যাওয়া বিভিন্ন অনিয়ম ও ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় এই ধরনের ঘটনা ঘটছে কি না, তা নিয়েও এখন নতুন করে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ দেশের বাইরেও নানা ধরনের কুৎসা রটনা এবং প্রোপাগান্ডায় লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমান সরকার দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করতে বদ্ধপরিকর। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের সুনাম রক্ষার্থে এবং প্রবাসে বা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সব ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে এই ঘটনার একটি ন্যায়সম্মত ও দৃষ্টান্তমূলক সমাধান বের করার জোরালো প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক