জালিয়াতি করে ব্যাংক থেকে প্রায় ৮২ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় মো. মেহেদী হাসানের তিনটি জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি লক করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে কীভাবে তিনি তিনটি এনআইডি পেলেন এবং এর পেছনে নির্বাচন কমিশন বা অন্য কোনো দপ্তরের কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অবহেলা বা জালিয়াতির প্রমাণ পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ইসি সূত্র।
দেশের ব্যাংকিং খাত ও জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জালিয়াতির মাধ্যমে একাধিক এনআইডি তৈরি করার একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। অতীতে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের আমলেও এই ধরনের অনিয়মের বহু ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে বর্তমান কমিশন এসব অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মো. মেহেদী হাসান কীভাবে একই ব্যক্তির নামে ভিন্ন তথ্যে তিনটি এনআইডি নিলেন, তা উদ্ঘাটনে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি কাজ করছে। এই জালিয়াতির সাথে নির্বাচন কমিশনের ভেতরের কোনো অসাধু চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তাও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দোষীদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, এ ধরনের জালিয়াতি রোধে এনআইডি সার্ভারের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে কোনো ব্যক্তি বা চক্র জালিয়াতি করে একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করতে না পারে, সেজন্য বায়োমেট্রিক ও ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেমের ব্যবহার আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
ডেস্ক রিপোর্ট