সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ৪৫ বছর পর এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পুনঃতদন্তে গুরুত্বপূর্ণ নতুন তথ্যের সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছেন মামলার বিশেষ প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া এক সাবেক সেনা কর্মকর্তার দেওয়া চাঞ্চল্যকর তথ্যের ভিত্তিতে এই অনুসন্ধান এখন নতুন মোড় নিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ দেড় যুগ পর এসে এই গোপন নথিপত্র বা সিক্রেট পেপার ঘিরে শুরু হওয়া তদন্ত দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশেষ প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা গণমাধ্যমকে জানান, ১৯৭৯ সালে সংঘটিত এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র এবং তৎকালীন বিভিন্ন গোপন কুশীলবদের বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল কিছু তথ্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে এসেছে। বিশেষ করে, পলাতক থাকা অবস্থায় ওই সেনা কর্মকর্তার গতিবিধি এবং তার কাছ থেকে উদ্ধারকৃত কিছু সংরক্ষিত নথি বিশ্লেষণ করে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে, প্রকৃত ঘটনা আড়ালে রাখতে দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পিতভাবে তথ্য গোপন করা হয়েছিল।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে যে, কেবল সেই নির্দিষ্ট সামরিক কর্মকর্তাই নন, বরং সেসময়ের আরও বেশ কয়েকজন জীবিত সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তির ভূমিকাও এখন নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তৎকালীন রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং ক্ষমতার পালাবদলের সমীকরণে কীভাবে এই হত্যাকাণ্ডকে প্রভাবিত করা হয়েছিল, তা উদঘাটনে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। এই পুনঃতদন্তের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ধোঁয়াশা কাটবে এবং জাতি হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল রহস্য জানতে পারবে বলে জোরালো আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
ডেস্ক রিপোর্ট