বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, পণ্য পরিবহনে সময় কমানো এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছে দু’দেশ। শুক্রবার থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায় বৈঠকে এই ঐকমত্যে পৌঁছায় উভয় পক্ষ। দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর যে আলোচনা চলছে, এই চুক্তি তার সফল বাস্তবায়নে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বৈঠকে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পাশাপাশি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সইয়ের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বা বাণিজ্যের পরিধি বিস্তৃত করা অত্যন্ত জরুরি। বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নানা ধরনের স্থবিরতা ও অনিয়ম দেখা দিয়েছিল। ওই সময়ে কার্যকর কোনো বড় বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং বৈদেশিক সম্পর্ক জোরদারের ধারাবাহিকতায় থাইল্যান্ডের সঙ্গে এই নতুন বাণিজ্য সমঝোতা স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। এর ফলে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্প্রদায় লাভবান হবে এবং তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যের রপ্তানি বাজার আরও প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ড উভয়েই বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের দেশ হওয়ায় সমুদ্রপথে বাণিজ্য ও যোগাযোগ বৃদ্ধির প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ কমানোর লক্ষ্যে সরাসরি নৌপথ চালুর বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। সাংবাদিকদের এ বিষয়ে জানানো হয় যে, খুব শীঘ্রই উভয় দেশের বিশেষজ্ঞ দল বাণিজ্য চুক্তিটির খসড়া চূড়ান্ত করতে বৈঠকে বসবে। এই উদ্যোগের ফলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে অর্থনৈতিক মেলবন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক