ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক সংঘাত এবং তাতে বিপুল সংখ্যক সৈন্যের প্রাণহানির আশঙ্কায় ময়দানে সহযোদ্ধাদের গণকবর দেওয়ার বিশেষ মহড়া পরিচালনা করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী। ১৯৫০-৫৩ সালের ঐতিহাসিক কোরীয় যুদ্ধের পর এমন ঘটনা আধুনিক মার্কিন সামরিক ইতিহাসে বিরল বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন বাহিনীর এই প্রস্তুতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে যেকোনো সময় বড় ধরনের সামরিক সংঘাত বেঁধে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নীতিনির্ধারক ও কৌশলবিদরা মনে করছেন ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের শক্তিমত্তা মোকাবিলা করতে গিয়ে মার্কিন বাহিনীকে চরম মূল্য দিতে হতে পারে। তাই সম্ভাব্য পরিস্থিতি সামাল দিতে আগেভাগেই এই বিশেষ মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে। গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সামরিক বিশেষজ্ঞরা জানান, এই ধরনের প্রস্তুতি কেবল তখনই নেওয়া হয় যখন কোনো পরাশক্তি দীর্ঘস্থায়ী ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা করে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল আকার ধারণ করেছে। এর আগে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার শাসনামলে কার্যকর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও নেতারা এই অঞ্চলে সাম্রাজ্যবাদী নীতির অন্ধ সমর্থন করলেও বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই স্নায়ুযুদ্ধ যেকোনো মুহূর্তে পূর্ণাঙ্গ সামরিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যা পুরো বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করবে। মার্কিন সেনাবাহিনীর এই গণকবর দেওয়ার মহড়া সেই আসন্ন ঝুঁকিরই এক নির্মম বাস্তবসম্মত চিত্র ফুটিয়ে তোলে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক