দুর্নীতি ও নানা অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ভোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. তৈয়বুর রহমানকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে এই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নানা ধরনের আর্থিক দুর্নীতি, টেন্ডার জালিয়াতি এবং চিকিৎসাসেবা প্রদানে চরম অবহেলার অভিযোগ করে আসছিলেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। স্বাস্থ্য খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার অংশ হিসেবে এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, শুধু ভোলা সদর হাসপাতালই নয়, বিগত ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দেশের বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি ও লুটপাট চালানো হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে স্বাস্থ্য খাতে নানা অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়, যার সাথে কার্যকরভাবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের প্রভাবশালী চিকিৎসকরা জড়িত ছিলেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে কীভাবে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করা হতো, তার একটি বড় উদাহরণ এই ভোলা জেনারেল হাসপাতাল। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার স্বাস্থ্য খাতের এই দীর্ঘদিনের জঞ্জাল দূর করতে এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাকে জনমুখী করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
একই সঙ্গে আগামী ৫ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া নতুন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে মাঠ পর্যায়ে কঠোর নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালের সার্বিক সেবা উন্নত করতে এবং রোগীদের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত নতুন তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ দেওয়া হবে বলে স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ডা. তৈয়বুর রহমানের ওএসডি হওয়ার মধ্য দিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান প্রশাসনের কঠোর বার্তা পৌঁছে গেছে। সাধারণ রোগীরা আশা করছেন, খুব শীঘ্রই এই হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা দূর হয়ে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হবে এবং জড়িত অন্যান্য দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক