ভোরের আলো ফোটার আগেই কর্মদিবস শুরু হয় পূর্ণিমার। দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটকের প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকা রামনালে ভোর চারটায় তাঁবু থেকে বেরিয়ে দিনের কাজের প্রস্তুতি নেন তিনি। তাঁবুতে থাকা অন্য নারীরাও পুরুষদের সাথে তাল মিলিয়ে কঠোর পরিশ্রমের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে শুরু করেন। কিন্তু তাদের এই সংগ্রামের পেছনে লুকিয়ে আছে এক ভয়াবহ ও অমানবিক বাস্তবতা, যা কেবল তাদের জীবিকাকেই নয়, বরং তাদের শারীরিক অস্তিত্বকেও হুমকির মুখে ফেলছে।
সাংবাদিকদের বলেছেন এই নারী শ্রমিকরা যে, মাঠে কাজ করার সময় ঋতুস্রাব বা শারীরিক অসুস্থতার কারণে কাজে কোনো বিরতি নেওয়া তাদের জন্য অসম্ভব। ঠিকাদারেরা প্রতিদিনের কাজের নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে বাধ্য করেন। সামান্য বিরতি দিলেও মজুরি কাটা হয় কিংবা কাজ থেকে বরখাস্ত করা হয়। পরিবারকে বাঁচানোর তাগিদে এবং কাজ হারানোর ভয়ে ভারতের এই অঞ্চলের শত শত নারী শ্রমিক জরায়ু কেটে বাদ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। চিকিৎসকদের মতে, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং অতিরিক্ত পরিশ্রমের ফলে এই চরম সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তারা।
এই অমানবিক পরিস্থিতি কেবল কর্ণাটক নয়, বরং মহারাষ্ট্রসহ ভারতের বিভিন্ন আখ উৎপাদনকারী অঞ্চলেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। শ্রমিক অধিকার কর্মীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং অবিলম্বে এসব নারী শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও আইনি অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও প্রভাবশালী ঠিকাদার সিন্ডিকেটের প্রভাবে এই নারীদের আর্তনাদ দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকা পড়ে রয়েছে, যা আধুনিক যুগেও চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের এক জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে অবতীর্ণ হয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক